১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:৫৮

শীতকালের আগমনী বার্তা আকাশে বাতাশে। আপনার একটু অসর্তকতার জন্য ঘটতে পারে দূর্ঘটনা, ঝলসে যেতে পারে আপনার কোনো প্রিয় জন

পোড়ার কারন: সাধারনত অতিরিক্ত গরম ( ফুটানো পানি বা আগুন )বা অতিরিক্ত শীতল কোনো বস্তুুর সংস্পর্শে আমাদের চামড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পুড়ে যেতে পারে।

 

পোড়ার রকম ভেদঃ
১)অগভীর পোড়া (superficial burn): শুধু চামড়ার উপরি অংশ এপিডার্মিস ক্ষতিগ্রস্থ হবে। চামড়া দেখতে লাল বর্ণ ধারন করবে,কোনো ফোস্কা পড়বে না,অল্পমাত্রায় যন্ত্রনা হবে। যেমন: সূর্য স্নানের পর এটা হবে।
২) আংশিক গভীর পোড়া ( partial thickness burn): এক্ষেত্রে চামড়ার উপরি অংশ এপিডার্মিস ও ডার্মিসের কিছু আংশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
চামড়া পোলাপি লাল বর্ণ ধারন করবে, ফোস্কা পড়বে এবং এটা যন্ত্রনাময়।
৩)গভীর পোড়া (full thickness burn): সমগ্র চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনকি চামড়ার নিচের চর্বি ও মাংসও ক্ষতি গ্রস্ত হতে পারে। চামড়া দেখতে সাদা ( লেদারি) হবে, ফোস্কা পড়বে, কিন্তু এটা তে কোনো ব্যাথা থাকবে না।

 

পোড়ার কারন সমুহ: সূর্য্যস্নান, গরম পানি ( সবচেয়ে কমন কারন), আগুন, এসিড, বরফ ইত্যাদি।

পোড়া রোগীর জন্য কি করবেন:
১) প্রথমে রোগীকে আক্রান্ত স্থান থেকে সরিয়ে নিবেন।
২) রোগীর শরীর থেকে আগুনে পোড়া / গরম পানিতে পোড়া কাপড় সরিয়ে ফেলবেন।
৩) পোড়া স্থানে স্বাভাবিক তাপ মাত্রার পরিস্কার টিউবওয়েল এর পানি বা বোতলজাত খাবার পানি ঢালবেন ( প্রায় ৩০ মিঃ পর্যন্ত)
৪) রোগীকে পরিস্কার ও শুকনা কাপড় পরিয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

 

কি কি করবেন না:
১) অযথা আতংকিত হবেন না,
২) পোড়া স্থানে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ( ফ্রিজের পানি বা বরফ) দিবেন না। এতে পোড়ার পরিমান বাড়বে।
৩) পোড়া স্থানে ডিম, তেল, পেষ্ট,আলু বাটা ইত্যাদি লাগাবেন না। এতে ইনফেকশনের সম্ভাবনা বাড়বে।
৪) হাসপাতালে নিতে দেরী করবেন না।

 

কাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হবে:
১)১০ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশী যাদের শরীরের ১০ শতাংশের বেশী পুড়ে গেছে।
২) যাদের শরীরের ২০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে।
৩) যাদের আগে থেকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপ বা অন্যকোন ক্রনিক ডিজিস আছে।

 

হাসপাতালে ভর্তির দরকার নেই:
বাচ্চা ও বয়স্ক যাদের শরীরের ১০ শতাংশের কম বা বয়স্ক যাদের শরীরের ২০ শতাংশের কম পুড়ে গেছে (partial thickness).

 

যাদের হাসপাতালে ভর্তির দরকার নেই তাদেরকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা করা সম্ভব:
১) পোড়া স্থান পরিস্কার রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পোড়া স্থানের যত্ন নিন। সাধারনত পোড়া স্থানে burn sil cream, burna cream ইত্যাদি রাগাতে পারেন।
মুখের পোড়ার ক্ষেত্রে nebanol oint লাগানো যেতে পারে।
২) পোড়া রোগীকে বেশি করে প্রোটিন ( সিদ্ধ ডিমের সাদা অংশ), লেবু চিনির শরবত খেতে দিন। তাকে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি করে খাওয়ান।

৪) দুধ পানকারি বাচ্চাদের কে বেশি বেশি করে বুকের দুধ দিন।
৩) পোড়া রোগীর (বিশেষ করে বাচ্চাদের) প্রসাবের পরিমানের দিকে খেয়াল রাখুন। প্রসাবের পরিমান কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪) পোড়ারোগীদের জ্বর আসতে পারে। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল খেতে দিন।( চিকিৎসকের পরামর্শ মতো)
৫) সাধারনত অল্প পোড়া রোগীদের ক্ষেত্রে কোনো এ্যান্টিবায়োটিকের দরকার হয় না।

 

প্রতিকার: যদিও দূর্ঘটনা যে কোনো সময়ই ঘটতে পারে, তবু কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা যেতে পারে।
১) চুলায় যেন অপ্রয়োজনে আগুন না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। (যারা কয়লা বা খড়ির চুলা ব্যবহার করেন)
২) রান্না করার সময় কিচেন এপ্রন পরিধান করা। যারা শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ পরেন,তারা ভালো মতো শারীর আচল বা ওড়না পেচিয়ে নিয়ে রান্না শুরু করা।

৩) ছায়ের ভিতর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আগুন সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তাই খোলা স্থানে ছাই ফেলাবেন না।
৪) গরম পানি, তরকারি,গরম ডাল ইত্যাদি শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
৫) গরম পানি, তরকারি,গরম ডাল পরিবহনের সময় শিশুদেরকে সর্তক করা । তারা যেন আপনার চলাচলের রাস্তায় না আসে।
৬) দূর্ঘটনা বশত কাপড়ে আগুন লেগে গেলে অযথা দৌড়াদৌড়ি করবেন না। মেঝেতে গড়াগড়ি করবেন। এতে দ্রুত আগুন নিভে যাবে।

৭) আগুনে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে মোটা কাপড়, কাথা দিয়ে জড়িয়ে ধরবেন। এতেও আগুন নিভে যাবে।

 

পরিশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনায়
ডা: মো: শোয়েব উর রশিদ
সহকারী রেজিষ্ট্রার, বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারি
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ
ঢাকা।