২৬শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ১২ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:০৬

কুমারখালী থানা পুলিশের হস্থক্ষেপে বন্ধ হল পীর নকছের আলীর শরিয়ত বিরোধী ওরশ

 

কু্ষ্টিয়া কুমারখালী থানা পুলিশের হস্থক্ষেপে অবশেষে বন্ধ হল পীর নকছের আলীর শরিয়ত বিরোধী অবৈধ ওরশ। শুক্রবার সন্ধায় কুমারখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থান উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর বাঁশআরা গ্রামের কথিত নকছের পীরের বিরুদ্ধে এলাকায় শব্দ দূষনসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগেরর ভিত্তিতে অবৈধ ওরশ বন্ধ করেদেওয়া হয়েছে বলে স্থানিয় সাংবাদিকদের জানান পুলিশ প্রশাসন।

 

ঘটনার ববিবরণে জানা যায় প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসে উল্লেখিত এলাকায় কথিত পীরের ওরশ অনুষ্ঠিত হয়।
এবছরও আগামী ২৯ নভেম্বর কথিত পীরের ওরশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বিভিন্ন আয়োজন। কিন্তু পিইসি পরীক্ষা ও নির্বাচনের কারনে ওরশ বন্ধের দাবী এলাকা বাসীর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, অনুষ্ঠানের প্রথমদিন কথিত পীরকে দুধ দিয়ে গোসল করানো হয় এবং তার ভক্ত বৃন্দ তার পায়ে সেজদা প্রদান করে।
এবং খুব উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারনে বার্ষিক পরীক্ষা স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটবে।

 

এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নওশের আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিধি লংঘন করে গান বাজানোর কোন সুযোগ নাই আগেই আমি নিষেধ করে দিয়েছি। উচ্চ শব্দে কোন বাজানো যাবেনা।
একই ইউনিয়নের মেম্বার মোঃ মতিয়ার রহমান অনৈতিক কোন কর্মকাণ্ড হয় কিনা প্রশ্নের জবাবে জানান,আমার জানা মতে ঐ ওরশে কোন অশ্লীল বা অনৈতিক কাজ হয়না।

 

এ বিষয়ে কথিত পীর নকছের আলীর সাথে মুঠোফোনে আলাপে তিনি পীর কিনা প্রশ্নের জবাবে জানান, তিনি মাইজ ভান্ডারী তরিকার পীর।

অশ্লীল বা অনৈতিক কাজ হয় কিনা প্রশ্নের জবাবে জানান, প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসে ওরস অনুষ্ঠিত হয় এবং দলমত নির্বিশেষে তার অসংখ্য ভক্তবৃন্দ যোগদান করেন।

তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে পুলিশ মোতায়েন থাকে সেই ক্ষেত্রে অনৈতিক বা অশ্লীল কাজ কিভাবে সম্ভব। তিনি আরো বলেন, লালন ভক্ত কিছু সাধু ওরশে এসে গান বাজনা করে।

পাশাপাশি মসজিদের ইমাম এবং তার কিছু ভক্ত বৃন্দ কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করেন। তিনি আরো বলেন ২৫ বছর যাবত তার এই ওরস অনুষ্ঠিত হচ্ছে অশ্লীল বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যদি তিনি লিপ্ত থাকেন তাহলে জনগণ অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতো।