২৬শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ১২ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:৫২

আফরোজা আক্তার ডিই একজন মেয়ে, একজন মা, একজন গৃহীনি, একজন শিক্ষক, একজন সাংবাদিক ও একজন সফল নারী নেত্রী

 

এসকল গুণের অধিকারী সফল এই নারীর নাম আফরোজা আক্তার ডিউ।
নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত সামির চিকিৎসার জন্য নিজের বেতনের সঞ্চিত টাকা থেকে সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১লক্ষ টাকা অসুস্থ্য সামির বাবা মায়ের হাতে তুলে দিলেন আজ। মানবতা অতল গহব্বরে বা মঙ্গল গ্রহে থাকে না। মানুষের বিবেক আর মনষ্যত্বকে একটু জাগ্রত করলেই মানবতার সন্ধান লাভ করা সম্ভব।
শুধু তাই নয় চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আমাদের সমাজের অবহেলিত, দূর্দশাগ্রস্থ মানুষগুলোর প্রতি একটু সহানুভুতির হাত বাড়িয়ে দিলেই আমাদের সমাজটাকে বদলে ফেলা সম্ভব।

গত নভেম্বর মাসের ১৩ তারিখ ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। স্ট্যাটাস ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের। ইতিমধ্যে মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় সামির চিকিৎসার জন্য সাহায়্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় সাহায়্যের আশ্বাস দিয়েছেন। বিভিন্ন সহৃদয়বান ব্যক্তিবর্গের কাছে থেকে কিছু সহযোগিতা পাওয়া গেছে। কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধানশিক্ষিকা আফরোজা আক্তার ডিউ ব্যক্তিগতভাবে ১ লক্ষ টাকা সামির বাবা মায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম সামির চিকিৎসার জন্য সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আমাদের সকলের চেষ্টায় সামি সম্পূর্ন সুস্থ্য হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবে সেই দোয়া করি। সকলের প্রতি অনুরোধ এই নিষ্পাপ শিশুটিকে তার বাবা মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে সাহায়্যের হাত বাড়িয়ে দিন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফুটফুটে এই শিশুটিকে আমরা ফিরে পাবো।

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত সন্তানকে বাঁচাতে ব্রেষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের করুন আকুতি

স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধী। কুষ্টিয়া জজ কোর্টে একটি দোকানে সাবলেট ভাড়া নিয়ে কম্পিউটার কম্পোজের কাজ করেন। সপ্তাহে ৫ দিন চলে কাজ। শুক্রবার, শনিবারসহ অন্যান্য সরকারী ছুটির দিনে দোকান বন্ধ থাকে। তারপরেও নিজের শারীরিক অক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে স্বামী রাজু আহমেদ ব্রেষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রী সাথী খাতুন ও একমাত্র পূত্র সন্তান ৬ বছর বয়সী রাফসান সামীকে নিয়ে কোন মতে দিন অতিবাহিত করছিলেন। রাফসান সামী কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম শ্রেণীর শরৎ শাখার শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে একমাত্র পুত্র সন্তান ও ব্রেষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসাসহ পারিবারিক খরচের চাপ সামাল দিতে রাজু আহমেদ যখন হিমশিম খাচ্ছেন ঠিক এই সময়ে চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর একমাত্র পুত্র সন্তান রাফসান সামী নিজ বাড়িতে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হলে ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাফসান সামীর বাবা মাকে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সামর্থ্য না থাকা সত্বেও ধার দেনা করে রাজু আহমেদ-সাথী দম্পতি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করেন। রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তির পর প্যাথলিজক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাজশাহী মেডিকেলের ডাক্তাররা নিশ্চিত হন রাফসান সামী ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। এই খবর জানার পর অসহায় এই দম্পতির মাথায় যেন বাজ পড়ে। ডাক্তারা পরামর্শ দেন অতিদ্রুত রাফসানের অপারেশন করা জরুরী। ধার দেনা করে রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়া হলেও রাফসানের অপারেশনের জন্য এতগুলো টাকা সংগ্রহ করা তার বাবা মায়ের জন্য কোনভাবেই সম্ভব নয়। রাফসানের মা সাথী খাতুন জানান, আমি ব্রেষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত। বেশকিছুদিন থেকে চিকিৎসা ঔষুধ বাবদ খরচে কোন রকম ডাল ভাত খেয়ে দিন পার করছি। স্বপ্ন ছিলো একমাত্র সন্তানকে কষ্ট করে হলেও পড়াশোনা করাবো, মানুষের মত মানুষ করবো। এখন সন্তানের জীবন বাঁচানোর মত আশার প্রদীপটাও যেন আস্তে আস্তে নিভে যাচ্ছে। সাথী খাতুন জানান, আমার জীবনের জন্য নয় আমার একমাত্র নিষ্পাপ শিশু সন্তানটিকে বাঁচানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের নিকট আকুতি জানাচ্ছি। ডাক্তার অতিদ্রুত রাফসানের অপারেশনের জন্য বলেছেন। আমাদের হাতে কোন টাকা পয়সা নাই। এতগুলো টাকা কিভাবে সংগ্রহ করবো কিছুই বুঝতেছি না। আমার জন্য না আমার একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
রাফসান সামীর পরিবারের সাথে যোগাযোগের জন্য-০১৭৮২-৭৩৩০৯২,
সাহায্য পাঠাতেঃ বিকাশ নম্বর-০১৭১২-৫১৮৪০৮, সোনালী ব্যাংক, কুষ্টিয়া (বাবর আলী গেট শাখা), হিসাব নম্বর-৩৪০৫৬২১৯.