২৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ১৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:৩০

নারী সমাজ সংগঠক হিসেবে আফরোজা আক্তার ডিউ সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন চান

একজন নারী কখন যে মানুষ হয়ে ওঠে তার প্রমান ও স্বীকৃতি মেলে তার কাজের জন্য। এমনি এক নারী আফরোজা আক্তার ডিউ সমাজের জন্য মানুষের জন্য কাজ করে অনন্য নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন কুষ্টিয়ায়। পারিবারিক সূত্রে তিনি রাজনীতি ও সমাজমনষ্ক মানুষ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ন্যায় নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

তার পিতা মরহুম সোহরাব হোসেন একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত (মৃত্যুকালীন পর্যন্ত) কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহবানে সরকারি চাকুরী ছেড়ে কোলকাতা থিয়েটার রোডে মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারে যোগদান করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কুষ্টিয়ায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করা এবং জনমত তৈরীতে ভুমিকা রাখেন।
তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মালেক উকিলের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। ১৯৭৮ সালে জহুরা তাজউদ্দিন কুষ্টিয়া এলে পাশের বাড়ির ছাদে তৃনমুল নেতাকর্মীদের ডেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে মিটিং করেন।

এছাড়া তিনি প্রতিবছর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে নিজ বাড়িতে গরীবদের খাদ্য বিতরণ, মিলাদ মাহফিল এবং টিভি বন্ধ রেখে শোক পালন করেন। যে কারনে মাঝে মাঝেই তার চাকুরী হুমকির সম্মুখীন হয়।
মা শাহানারা বেগম মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, বস্ত্র সরবরাহ ও অস্ত্র সংরক্ষণ করেছেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা।

 

ডিউয়ের চাচা প্রয়াত আবুল কাশেম পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এমন পারিবারিক প্রতিবেশে তার বেড়ে ওঠা। রক্তে তার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরম পরিতোষে শিরা উপশিরা বেয়ে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। তারই রেশ কেবল টেনে চলেছেন এই নারী নানাবিধ কর্মকা-ের মাধ্যমে।

 

একজন নারী যে বহুমাত্রিক গুণ ও কর্মের অধিকারীনি হয় তার কাজ দেখলে বোঝা যায়। চাকুরী করে, সংসার সামলে, সন্তান লালন পালন করে, সাংবাদিকতা, রাজনীতি, সংস্কৃতির অধ্যয়ন ও চর্চা চালিয়ে যাওয়া, সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা এবং সকল প্রকার অন্যায়, নিপীড়নের বিরুদ্ধে কলম-কাগজে প্রতিবাদের পাশাপাশি রাাজপথেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে মানবীয় চরিত্রের স্বরূপ প্রকাশ করে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরে এই নারী।

 

শুধু কথায় নয় কাজে তিনি স্বাক্ষর রেখেছেন। মানুষের মঙ্গলের জন্য, চিকিৎসার জন্য, লেখাপড়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে তিনি নগদ অর্থ, বইখাতাপত্র সহ মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে চলেছেন এই নারী।

 

২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিকের পরিবারে নানাপদের সহযোগিতা করে চলেছেন । তার সন্তানের লেখাপড়ার জন্য ২০১৮ থেকে অধ্যাবধি মাসে এক হাজার টাকা দিয়ে যাচ্ছেন । ২০১৮ সালে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র রাফ্ফান সামী ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার জন্য নগদ এক লাখ টাকার আর্থিক সাহায্য করেছেন এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের মাধ্যমে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। সমাজসেবামূলক কাজের জন্য বিশেষ করে শিশুদের জন্য কোমলমতি মায়া ও সহযোগিতা প্রবণ মনের জন্য কুষ্টিয়ার মানুষ তাকে মানবতার মা উপাধিও দিয়েছে ইতোমধ্যে।

 

এসব ছাড়াও সাহিত্য , সংষ্কৃতি চর্চা, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চালিয়ে নেওয়া এবং নারী সাংবাাদিক হিসেবে কুষ্টিয়ায় তার প্রত্যক্ষ বিচরণ এবং কার্যকর ভূমিকা প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন নারী যে পুরুষের চেয়ে কখনো কখনো এগিয়ে, বেশি প্রজ্ঞা ও গুণের অধিকারি তার প্রমান এই নারী। দুহাতে সমানে শিক্ষা, সমাজসেবা, সাংবাদিকতা ও সামাজিক কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ।

 

নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরও তিনি। কুষ্টিয়ার রাজপথে ডিউয়ের পদচিহ্ন সেই কথা বলে। তার অদম্য এই রাজসিক কার্যক্রম আর সব নারী থেকে তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। এ কাজে সবচে বেশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তার স্বামী কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সম্পাদক ও দৈনিক দৈনিক আরশীনগর, দৈনিক পদ্মা গড়াই, ডেইলি অথেনটিক পত্রিকার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব।স্বামী ঃ রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব ( বর্তমানে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগ, কেন্দ্রীয় সদস্য, বিএফইউজে, সভাপতি, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়া, সাবেক সদস্য, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ (১৯৯২), সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ ( ১৯৯১), সাবেক সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কিশোর সংসদ (১৯৯০)। ১৯৯৩ সালে ছাত্রশিবিরের মামলায় কারাভোগ। ১৯৯৫ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার অর্থায়নে কোলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন। সম্পাদক, দৈনিক আরশীনগর, দৈনিক পদ্মা গড়াই, ডেইলি অথেনটিক।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৭২তম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সফরসঙ্গী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থায়নে ২০১৮ সালে পবিত্র হজ্জপালন।
২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কারাবন্দী করলে নেত্রীর মুক্তির দাবীতে ‘জননেত্রী ফিরে আসবেই’ শিরোনামে ৮০৬ লাইনের কবিতার বই শাহরিয়ার কবিরের প্রেস ডানা প্রিন্টার্স থেকে প্রকাশ করলে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব তাকে খোঁজার নামে বাড়িতে তল্লাসীর সময় ভাংচুর করেন। যে বইয়ের ভুমিকা লেখেন কবি রবিউল হুসাইন। আর আবৃত্তি শিল্পী হাসান আরিফের এই কবিতার সিডি বের কেিরছিলেন। যার কারনে বিপ্লবকে বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে থাকতে হয়। তার স্বামীও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় ভারতে পড়াশুনা করেছেন।

 

এই কর্মবীর মহিলা ১৯৭৬ সালের ২ এপ্রিল কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষে নারী বিএডও করেছেন।
বর্তমানে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন পাশাপাশি ডেইলি অথেনটিক পত্রিকার

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ডেইলি নিউ নেশন ও দৈনিক বঙ্গজননী কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবেও সফল এই নারী। শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে ২০১৬ সালে জয়ীতা হয়েছেন।

 

বর্তমানে নানাবিধ সামাজিক ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত এই নারী কুষ্টিয়া জেলা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল ও সমন্বয় কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সদস্য সচিব ছিলেন। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, কুষ্টিয়া জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক তিনি।

এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন(বিএফইউজে), কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য, সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সহ-সভাপতি, অদ্বিতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য সচিব, কুষ্টিয়া লেডিস ক্লাবের সাহিত্য ও প্রচার সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য, লালন একাডেমি, চক্রবাক আবৃত্তি সংসদ, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক জোট, কুষ্টিয়ারও সদস্য।

 

উল্লেখ্য যে তিনি, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিবর্তন (গভ: রেজিষ্টার্ড) কুষ্টিয়ার কো-অর্ডিনেটর, সরকারি শিশু সদন (বালিকা) বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং কুষ্টিয়া জেলা রেফারি আম্পায়ার সমিতির আজীবন সদস্যও এই বহুমাত্রিক গুণি মানুষটি। এছাড়াও রাজনীতি মনষ্ক সচেতন এই সমাজকর্মী বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখারও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক। একজন নারী হিসেবে স্বামী, সংসার, কর্মস্থল সামলে নানাবিধ সংগঠনের সাথে প্রত্যক্ষ যোগ রেখে চলেছেন দীর্ঘ দুইযুগ ধরে। আর এসব সংগঠনে তিনি মানুষের জন্য, সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন অত্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠার সাথে।।

 

এ বিষয়ে ডিউ বলেন, মাুনষের জন্য কাজ করতে এবং মানুষকে সত্যিকার মানবিক গুন সম্পন্ন মানুষ হিসেবে দেখতে পারাটা সত্যি।গর্বের। আমি দিন রাত অবহেলিত, অসহায় নারী, শিশু ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি ছাত্র থাকা অবস্থায়। আমি এসব গুন পেয়েছি পারিবারিকভাবে। ছোটবেলা থেকে আমাদের পরিবারে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতি চলেছে। এইজন্য আমি গর্ববোধও করি। আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর ছিলেন। সেই থেকে আমি ছোটবেলা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃকব্ত। আমার মা, বাবা, চাচা, ভাই-বোন ও স্বামী সকলেই আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।
পারিবারিক সদস্য ঃ
বড় ভাই ঃ খালেকুজ্জামান স্বপন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী
মেজ ভাই ঃ হাসানুজ্জামান স্বরণ, জেলা শ্রমিকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি (১৯৯৩-১৯৯৮), সাবেক সভাপতি, জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন (২০০৮)
বড় বোন ঃ শামীমা আক্তার শিপ্রা, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ২২ নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামীলীগ, ঢাকা মহানগর।
মেজ বোন : শিউলি আলম, ২২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদিক, ঢাকা মহানগর। কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক মহিলা সম্পাদিকা (১৯৮৬)
সেজ ভাই : আশরাফুজ্জামান কিরণ, সরকারি ঠিকাদার, সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
৪র্থ ভাই : আখতারুজ্জামান রিপন, প্রকৌশলী, বিএটিবি। সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু কিশোর সংসদ। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগ।
ছোট ভাই : রাশেদুজ্জামান মিল্টন, ব্যাংক কর্মকর্তা। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ।

 

সেকারণে আরো বেশি সক্রিয় ভাবে রাজনীতি করতে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে মানুষের আরো কাছে যাওয়া এবং তাদের জন্য কাজ করতে পারবো।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে কুষ্টিয়া থেকে মনোনয়ন দিলে আমি কুষ্টিয়ার মানুষের জন্য মাটির জন্য কাজ করে যাবো এবং মানুষ আমাকে পেলে তারাও আনন্দিত হবে বলে আমি মনে করি।
সমাজ -সংষ্কৃতি ও রাজনীতি মনষ্ক নারী আফরোজা আক্তার ডিউ দুই মেয়ে তাসনিয়া ইসলাম তানহা, নূসাইফা ইসলাম ত্বাহা ও স্বামী সংসার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন আরশীনগর ভবন, পূর্ব মজমপুর, কুষ্টিয়ায় বসবাস করছেন।