২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:২৩

কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে এলজিইডি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

স্থানীয় নিয়োগের দাবিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)’র মাস্টার রোল ও উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) সারা দেশ থেকে আসা কয়েকশ নারী-পুরুষ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এলজিইডি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেন।

 

আন্দোলনকারীরা বলছেন, উচ্চ আদালত থেকে তাদের ৭ হাজার ৫২৬ জনের স্থানী নিয়োগের কথা থাকলেও ৩ হাজার ৮২৩ জনকে এখনও স্থায়ীকরণ করা হয়নি। বার বার প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ আমাদের আশ্বস্ত করলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি।

 

তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এলজিইডি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট এলজিইডির মাষ্টার রোল ও উন্নয়ন প্রকল্পের সাত হাজার ৫২৬ জনের স্থানী নিয়োগ দিতে রায় ঘোষণা করে। এই রায়ের পর তিনহাজার ৮২৩ জনকে স্থায়ী করা হয়।

 

তিনি বলেন, পদশূন্য না থাকায় বাকিদের পরে স্থায়ী করা হবে বলে তখন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সম্প্রতিক সময়ে পাঁচহাজারের বেশি পদশূন্য থাকলেও মাষ্টার রোল ও উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের স্থায়ী ভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।

 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় প্রধান প্রকৌশলীর কাছে এই ব্যাপারে গেলে তিনি আমাদের শুধু আশ্বস্ত করেছেন। আমরা জানতে পেরেছি আমাদের বাদ দিয়ে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া চেষ্টা চলছে। এর প্রতিবাদে আমরা আজ চারদিন ধরে এলজিইডি ভবনের সামনে অবস্থা নিয়ে আন্দোলন করছি।

 

এলজিইডির মানিকগঞ্জে মাস্টার রোলে কর্মরত রোলার চালক হাবিবুল ইসলাম বলেন, স্থায়ী না হতে পারায় আমাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিতার মধ্যে পড়েছে। সকল বৈধতা থাকার পরও প্রধানপ্রকৌশলী কী কারণে আমাদের ঘোরাচ্ছে তিনিই জানেন। আমরা দাবি না হলে কাজে যোগ দিব না বা এখান থেকে সরব না।ফরিদপুর এলজিইডির আঞলিক কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘ বিশবছরের বেশি সময় ধরে আমি এলজিইডিতে কাজ করছি। কিন্তু এখন পদশুন্য থাকলে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। যারা এখানে আন্দোলনে এসেছে তারা কেউ ১০ বছর ধরে চাকরি করছেন কেউ পনের বা বিশ বছর। এত বছর চাকুরি করার পর যদি স্থায়ী না হতে পারি তাহলে আমাদের পরিবার ও ভবিষ্যত সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকবে।’

 

তার দাবি, সাবেক এলজিইআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন অনেককে চাকরিতে স্থায়ী করলেও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য উনার (প্রধান প্রকৌশলীর) আন্তরিকতা এখন অনেক কম। আর এই কারণে আমাদের আজ রাস্তায় নামতে হয়েছে। আমরা রাস্তায় থাকতে চাই না। দ্রুত আমাদের স্থায়ী করা হোক।’

 

এলজিইডি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকায় এসেছে আন্দোলনে সঙ্গে একত্মতা জানাতে। সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থা করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরব না। বিগত দুই বছরের বেশি সময় আমাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। আমরা যখন সমবেত হয় তখনই আমাদের সাথে তালবাহানা করে নিয়োগ পিছিয়ে দেয়া হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘স্থায়ী নিয়োগ না হওয়ায় আমাদের সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্ট্রোকে মারা গেছে। এবার আন্দোলনে এসে অসুস্থ হয়ে চারদিনে পাঁচজনের বেশি হাসপাতালে কর্মচারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’