২৬শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ১২ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:২১

কুমারখালীতে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তৃষার বিয়ে বন্ধ হলো। পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন নীলা

কুমারখালীতে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দিলো। বিয়ের আসরে বাবা-মায়ের মারপিটেও বিয়েতে রাজী হয়নি স্কুলছাত্রী তৃষা। বিয়ের আসর ত্যাগ করে বর সহ স্বজনেরা। পরে বাড়িতে এনেও তৃষাকে মারপিট করে বাব-মা। তৃষাদের বাড়ি এলঙ্গী রেলপাড়া। তারা বাবা আব্দুস সালাম দিনমজুরের এবং মা নাগরী খাতুন গৃহীনি।
তৃষা কুমারখালী শহরের জে,এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। সে এবার সপ্তম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হলেও (রোল নং- ১৩) তাকে স্কুলে যেতে না দিয়ে গোপনে বিয়ের দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করে তার বাবা-মা। কিন্তু তৃষা বিয়ে করতে আগ্রহী নয়, সে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। এই কথাটি বাবা-মাকে বলেও কোন কাজ হয়নি। তৃষার অসম্মতি সত্ত্বেও গত ১৬ জুন তৃষাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় নন্দলালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের চাচার বাড়িতে।

 

ওইদিন রাতে তৃষাকে শাড়ি-চুড়ি পড়িয়ে বধু সাজিয়ে নিজের ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে (রাজমিস্ত্রির সহযোগী) তৃষার বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বিয়ে আসরে তৃষা কবুল বলতে রাজী হয়নি। বিয়ের আসরেই বাবা-মা তৃষাকে বেধড়ক মারপিট করা হলেও বিয়েতে রাজি হয়নি। বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তৃষার নানী গোপনে এসে মহিলা পরিষদ নেত্রী শামীমা পারভীন রোজীকে জানালে শনিবার দুপুরে মহিলা পরিষদ কুমারখালীর সাধারন সম্পাদক রওশন আরা বেগম নীলা, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীমা পারভীন রোজী ও আলেফা খাতুন স্কুল ছাত্রী তৃষাদের বাড়িতে যান। এ সময় তৃষার মা নাগরী খাতুন নারী নেত্রীদের জানান, আর কতো পড়াশোনা করবে। মেয়ে তো বড় হয়ে গেছে। রেলের পাশে বাস করি, ঠিকমতো সংসার চলে না পড়াশোনার খরচ চালানোর উপায় নেই। তাই বিয়ে দিয়ে দিতে চাই।

 

রওশন আরা বেগম নীলা বাল্যবিবাহ সম্পর্কে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরলেও তৃষার মা পড়াশোনার করাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন তৃষার পড়াশোনার খরচ সহ অন্যান্য খরচ দিয়ে চান নারী নেত্রী রওশন আর বেগম নীলা। তবুও তৃষাকে পড়াশোনা করাতে আগ্রহী নয় তার মা নাগরী খাতুন।

 

এক পর্যায়ে রওশন আরা বেগম নীলা তৃষাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করাতে চাইলে এতে রাজী হন তৃষার মা। এ ব্যাপারে রওশন আরা বেগম নীলা ও শামীমা পারভীন রোজী মুঠোফোনে জানান, আমরা মেয়েটি মাকে অনেক বুঝাতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে রাজী নয়। ওরা মেয়েটিকে অনেক মারধর করেছে। তবুও মেয়েটি বিয়েতে রাজী হয়নি।