২৫শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ১১ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:০৮

জমি দেন,নয়লে মুখে বিষ দেন -প্রধানমন্ত্রীকে আদিবাসীরা

মিজানুর রহমান নয়ন,কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কে দৃষ্টি আকর্ষন করে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর আদিবাসীরা দুচোখের জল ছেড়ে সাংবাদিকদের জানান,”হয় আমাদের জমি ফিরিয়ে দেন,নয়লে মুখে বিষ ঢেলে দেন।আমরা বাগদি সম্প্রদায় প্রায় ৮০/৮৫ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি।কিন্তু আমাদের উচ্ছেদ করার জন্য বেশকিছু দিন ধরে ভূমিদস্যু তুহিন বিশ্বাস পায়তারা করছে।আমাদের উপর আক্রমন চালিয়ে আসছে।আমাদের আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিচ্ছে।

বুধবার দুপুরে ভূমিদস্যু তুহিন কর্তৃক উচ্ছেদের বিপক্ষে আদিবাসী বাগদি সম্প্রদায়ের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের তারা একথা বলেন।আদিবাসীরা জানান,আমরা বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে কোথায় যাব? শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আমাদের মাটি ছাড়বো না।তারা আরো জানান,আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন কি হয়।

এবিষয়ে কুমারখালী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম রফিক জানান,তুহিন একজন ভূমিদস্যু,সন্ত্রাসী।সব সময় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে চলে।সে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করার জন্য বার বার আক্রমন চালাচ্ছে।তিনি আরো জানান,এবিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আদিবাসীদের রক্ষার্থে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থান গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

এবিষয়ে কুমারখালী উপজেলা সহকারি কমিশার (ভূমি) এম এ মুহাইমিন আল জিহান জানান,আমি নতুন এসেছি।বিষয়টি নিয়ে স্টাডি করছি।ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি,আদিবাসীরা তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় লিজ কেটে আছে।তিনি আরো জানান,আদিবাসীরা যাতে তাদের দাবি থেকে বঞ্চিত না হয়,সেদিকে অবশ্যয় গুরুত্ব দেওয়া হবে। এবিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান,একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।তদন্ত সাপেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ভূমিদস্যু তুহিন বিশ্বাস কুমারখালী মহিলা কলেজের প্রভাষক ও নন্দনালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর বিশ্বাস পাড়ার বাসিন্দা

এবিষয়ে তুহিন বিশ্বাসের সাথে মুঠোফোনে জমি দখলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সে জানায়, আমি কথা বলবো কাগজ পত্র নিয়ে। এবং সরকারী জমি কিভাবে ক্রয় করেন সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তুহিন বিশ্বাস কৌশলে এড়িয়ে যায়।

জানা যায়, বুজরুখ দুর্গাপুর মৌজার এসএ ৩/৩৪০ ও আরএস ৩৪০ নং খতিয়ানের ৮ টি দাগে প্রায় ৮ বিঘা সম্পত্তি যার মালিক বাংলাদেশ সরকার পক্ষে ডেপুটি কমিশনার। উক্ত সম্পত্তি আতাউর রহমান সুজন, কুমারখালী সরকারী কলেজ ও আদিবাসীরা বরাদ্দ নিয়ে ভোগদখল করে আসছে।

ইতিমধ্যে উল্লেখিত জমির এসএ ৯১৪ নং দাগের ১৬ শতাংশ জমি যেটা আতাউর রহমান সুজন গং এর নামে বরাদ্দ। সেই জমিতে তুহিন বিশ্বাস জোরপূর্বক মার্কেট নির্মাণ করেছে। এবং সরকারী কলেজের নামে এসএ ৯০৬,৯১১,৯১৫ ও ৯১০ নং দাগের ৯৮ শতক জমি যেটা জলাশয়। সেই জমিতে বালি ভরাট করাকালীন সময়ে সচেতন এলাকাবাসী তাকে বাধা সৃষ্টি করলে সে আপাততঃ নিবৃত হয়। আরো জানা যায়, বিলুপ্ত প্রায় বাগদি সম্প্রদায়ের ৪ শত পরিবার শত বছর ধরে উক্ত জমির এসএ ৯১৩,৯১৪,৯১২ ও ৯৪৫ দাগের জমি সরকারীভাবে বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছে। উল্লেখিত জমি তুহিন বিশ্বাস জোরপূর্বক দখল করতে গেলে উল্লেখিত ঘটনার সৃষ্টি হয়।