১৬ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৫৩

আবার নায়ক রাজ্জাক

নিউজ ডেস্কঃ ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি তাঁর ভূরি ভূরি। অবশ্য সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও সে সাফল্য কম নয় আবদুর রাজ্জাকের। বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় দলের বাইরে থাকা এ বাঁহাতি স্পিনারের ঘূর্ণিতেই গতকাল ফতুল্লায় জিতল শেখ জামাল ধানমণ্ডি। এক ম্যাচ আগে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে শেখ জামাল রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতেছিল তাঁর বোলিংয়েই। গতকাল পারটেক্স স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় শেষ পর্যন্ত জয় তাদের মাত্র ৩ উইকেটের। লক্ষ্য আরো বেশি হলে সমস্যায়ই পড়ার কথা ছিল জামালের, কিন্তু এর আগেই  যে প্রতিপক্ষকে সাধ্যের মধ্যে বেঁধে ফেলেছিলেন তাদের অধিনায়ক রাজ্জাক, ২২ রানে ৫ শিকার তাঁর।

 
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে ছোট লক্ষ্য পাওয়া মোহামেডানকে অবশ্য জিততে মোটেও বেগ পেতে হয়নি। স্পিনারদের ঘূর্ণিতে ভিক্টোরিয়াকে মাত্র ১৫৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ভূমিকা আছে পার্টটাইম বোলার শামসুর রহমানেরও। এদিন তাঁর নাম একটু বেশি করেই আলোচনায় আসার কারণ পুরো ১০ ওভার বোলিং করে ৩০ রান খরচায় ২ উইকেট নেওয়া এ ব্যাটসম্যান পরে ব্যাট হাতেও দলকে দেখিয়েছেন জয়ের পথ। তাঁর হার না মানা ৭৪ রানের ইনিংসে ১৫৫ রানের লক্ষ্যে মাত্র ৩০ ওভারেই পৌঁছে যাওয়া মোহামেডানও পেয়েছেন ৭ উইকেটের জয়। পাঁচ ম্যাচে এটি তাদের তৃতীয় জয়। মাইশুকুর রহমানের অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসে ২৬৭ রান করা ব্রাদার্স ইউনিয়নও পেয়েছে লিগে তাদের দ্বিতীয় জয়। বিকেএসপি ৩ নম্বর মাঠে তারা ৭১ রানে হারিয়েছে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সংঘকে। আর পাঁচ ম্যাচের চারটি জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে শেখ জামাল। পয়েন্ট তালিকার দুই শীর্ষ দল এখন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব এবং গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। দুই দলই জিতেছে এখন পর্যন্ত খেলা পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই।

 

আগের রাউন্ডে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে হারিয়ে দারুণ ছন্দ পাওয়া শেখ জামাল শুরু থেকেই চেপে ধরে পারটেক্সকে। অবশ্য এর মধ্যে দলকে পথ দেখাতে থাকা ওপেনার জনি তালুকদারকে (৬৫) ফেরানো লেগ স্পিনার তানভীর হায়দার (২/৪৭) মিডল অর্ডারে আঘাত হানার পর পারটেক্সের লেজ ছাঁটার কাজটি করেছেন রাজ্জাক। জবাবে জামালের ব্যাটসম্যানদের সিংহভাগই সেট হয়েছেন কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪২ রান আসে ওপেনার মাহবুবুল করিমের ব্যাট থেকে। তবে লক্ষ্য নাগালের মধ্যেই থাকায় জয় কখনোই অনিশ্চিত হয়ে পড়েনি সেভাবে। মোহামেডানের বিপক্ষেও যে ভিক্টোরিয়া বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি, তার কারণও বাঁহাতি স্পিনাররা। তাইজুল ইসলামের (৪/৩৭) সঙ্গে শিকারযজ্ঞে যোগ দিয়েছিলেন এনামুল হক জুনিয়রও (৩/৩১)। জবাবে স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা হওয়ার আগেই ওপেনার সৈকত আলীকে হারায় মোহামেডান। অন্য ওপেনার রনি তালুকদারও (১৯) টেকেননি বেশিক্ষণ। সেখান থেকে দলকে সহজ জয়ের তীরে পৌঁছে দেওয়া শামসুর ৭৭ বলে ৭৪ রান করে অপরাজিতই থাকেননি শুধু, চতুর্থ উইকেটে ৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপও গড়েছেন অভিষেক মিত্রকে (৩৯*) নিয়ে। ব্রাদার্সও শুরুতে ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দীককে (৪) হারালেও কখনো মিজানুর রহমান (৪৮) কখনো ফরহাদ হোসেনকে (৬৭) নিয়ে দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়েন ৯০ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করা মাইশুকুর। শেষ দিকে ২১ বলে ৪২ রানের ঝড়ে ব্রাদার্সের দ্বিতীয় জয়ের পথ মসৃণ করেন ধীমান ঘোষ।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মোহামেডান-ভিক্টোরিয়া

ভিক্টোরিয়া ৪০ ওভারে ১৫৪ (রুবেল ৪২, মঈনুল ২৭; তাইজুল ৪/৩৭, এনামুল জুনিয়র ৩/৩১, শামসুর ২/৩০)।

মোহামেডান ৩০ ওভারে ১৫৮/৩ (শামসুর ৭৪*, অভিষেক ৩৯*)।

ফল : মোহামেডান ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : শামসুর রহমান (মোহামেডান)।

শেখ জামাল ধানমণ্ডি-পারটেক্স স্পোর্টিং

 

পারটেক্স ৪৬.৩ ওভারে ২০১ (জনি ৬৫, সাজ্জাদ ২৬, রাজ্জাক ৫/২২, তানভীর ২/৪৭)।

শেখ জামাল ৪৫.২ ওভারে ২০২/৭ (মাহবুবুল ৪২, তানভীর ৩৪*, সোহাগ ৩১; মামুন ৩/৩৭, মাসুম ২/৪৩)।

ফল : শেখ জামাল ৩ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : আবদুর রাজ্জাক (শেখ জামাল)।

ব্রাদার্স-খেলাঘর সমাজকল্যাণ

ব্রাদার্স ৫০ ওভারে ২৬৭/৬ (মাইশুকুর ৮৪*, ফরহাদ ৬৭, মিজানুর ৪৮, ধীমান ৪২*; তানভীর ৩/৪৯)।

খেলাঘর ৫০ ওভারে ১৯৬/৯ (নাজিম ৬৮, ডলার ৫৩*; নিহাদ ৩/৩৭, অলক ২/২৪, বিসলা ২/২৪)।

ফল : ব্রাদার্স ৭১ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : মাইশুকুর রহমান (ব্রাদার্স)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.