২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ২:২৫

পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করলেন ইউএনও মো. শাহীনুজ্জামান

কুমারখালী:  কুমারখালী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুরে রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত ওয়ার্ডে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহীনুজ্জামান।

 

 
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র এসএম রফিক, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাবুবুল আলম বাবু, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ তুহিন শেখ, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পারুল ও নাট্যকার, লেখক প্রাবন্ধিক লিটন আব্বাস, কুমারখালী মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শামিমা আফরোজ রোজী, পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রতন, উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রতি পরিষদের কুষ্টিয়ার সম্পাদক নিতাই কুন্ডু, সাংবাদিক দীপু মালিক, সাংবাদিক বাবলু জোয়ারদার, কাজী সাইফুল প্রমুখ।

 
কুমারখালী পৌরসভাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড এর আদিবাসী পল্লীতে আজ বিকালে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করেন ইউএনও মোঃ শাহীনুজ্জামান। শপথ বাক্যপাঠের মাধ্যমে ১নং ওয়ার্ড বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষিত হলো। এলাকার অভিভাবক-অভিভাবিকা, ওয়ার্ডের বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ঈমাম, কাজী, ঠাকুর উপস্থিত ছিলেন এবং সবাই হাত উঁচিয়ে এই ওয়ার্ডে ভবিষ্যতে কোন বাল্য বিবাহ হবে না মর্মে অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন থেকে তেলোওয়াতের মধ্য দিয়ে। পরে গীতা পাঠ করেন বাবু নিতাই কুমারে কুন্ডু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কুমারখালী পৌরসভার এনার্জেটিক ও করিৎকর্মা, সমাজমনষ্ক কাউন্সিলর এসএম রফিক।

 
বক্তারা বাল্যবিবাহ ১ নং ওয়ার্ড থেকে মুক্ত করতে সচেতন সকল নাগরিককে অনুরোধ করেন। ইউএনও বলেন, ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংশোধিত ২০১৬ মোতাবেক বাল্যবিবাহ উৎসাহে জড়িত পিতা-মাতা, কাজী, ডেকোরেটর এবং বিয়ের মদদদাতা ও সহযোগিদের কমপক্ষে ২ বছর জেল এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। উপরন্ত গোপনেও যদি বাল্য বিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রশাসন যদি ১ বছরের মধ্যে জানতে পারে তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে একই শাস্তির বিধান রয়েছে। এ জন্য অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি,কাজী, ঈমাম ও ঠাকুরদের সর্বদা সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

 

প্রধান অতিথি মোঃ শাহীনুজ্জামান আরো বলেন, আইন প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও বাল্যবিবাহের শিকার হওয়া ছেলে-মেয়ে উভয়কে সচেতন হলেই বাল্যবিবাহ মুক্ত হবে। রাষ্ট্রের উন্নতিতে সকল নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ভিশন টোযেন্টি টোয়েন্টির অন্যতম অন্তরায় এই বাল্যবিবাহ সুতরাং এই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট করে আগামী দিনের জাতিগঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.