১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:৪৮

ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার

শাহনাজ পারভীন রেখা ইসলাম নারীকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ার এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন।হযরত খাদিজাতুল কোবরা(রঃ) স্বাধীন ভাবে ব্যবসা ও অর্থ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতেন।কিন্তু বর্তমান সমাজে মুসলিমদের মধ্যে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়।নারীরা শ্রম দিয়ে চাকুরীতে,ব্যবসাতে শ্রম ও সেবা দান করেন,কিন্তু অর্থ নিয়ন্ত্রণ করে পুরুষ (স্বামী/পুত্র/পিতা/ভাই)।নারীর উপার্জিত অর্থ নারী নিজেই নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে,ইসলাম তাকে সেই অধিকার দিয়েছে।
:
সমাজে নারীর অবস্থা যখন অমানবিক এবং অবর্ণনীয় তখন থেকেই আমাদের নবী(সঃ) নারীর প্রাপ্ত অধিকার ও মর্যাদা জন্য নজীরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছিলে।যাহা বিদায় হজ্জের ভাষনে বিশেষ ভাবে স্হান পেয়েছে।অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আচরন বা কোন দেশের মুসলিম সমাজের সংস্কারই ইসলামী আইন বা বিধি বলে ধারনা করা হয়,যেটি ভ্রান্ত ধারনা।বহুবিধ কারনে ইসলামে নারীর মর্যাদার বিষয়ে ভ্রান্তি বিরাজমান।
:
নারীদেরও রয়েছে স্বাধীন এবং স্বতন্ত্র স্বত্ত্বা।মুসলিম সমাজে নারী পুরুষ পারিবারিক বিষয়ে একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।ধর্মীয় আচার আচরণ, শিক্ষারর অধিকার,স্বীয় কর্মফলের পুরস্কার, অর্থনৈতিক বিষয়ে এবং নিজস্ব বিশ্বাস ও প্রতিরক্ষায় নারীপক্ষও পুরুষের সংগে সমধিকার প্রাপক।
:
বাংলাদেশের পারিবারিক আইনে কোন নারী যদি চায় যে,তারও বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার থাকবে,তবে তা শর্ত সাপেক্ষ।যদি কোন নারী চায় যে স্বামী তার অনুমতি ছাড়া একাধিক বিয়ে করতে পারবে না,তবে তা তার বিবাহ চুক্তিতে শর্ত হিসাবে থাকতে পারে।ইসলাম এ ক্ষেত্রে স্বামীর সামর্থ ও ন্যায়নিষ্ঠার কঠিন শর্তারোপ করেছে।
:
পিতা ও স্বামীর সম্পদে মুসলিম নারীর অধিকার রয়েছে।উত্তারাধীকারের ক্ষেত্রে কন্যা পুত্র সন্তানের অপেক্ষা পিতার সম্পদের অর্ধেক পেয়ে থাকে।তবে কন্যা বিবাহের পর স্বামীর সম্পদের ভাগও পেয়ে থাকে,যেকারনে নারী পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যদের থেকে বেশি সম্পদের মালিক হওয়ার কথা,কিন্তু কার্যত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
:
ওয়া লাহুন্না মেসলুল্লাজি আলাইহিন্ন বিল মারুফ….অলির রিজালি আলাইহিন্ন দারাজাহ….
অর্থাৎ নারীদের তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে,যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের কিন্তু নারীদের উপর পুরুষের মর্যাদা বেশি।
__সুরা বাকারা।
বিবাহিত নারীর অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থান সহ সকল মৌলিক চাহিদা পুরুষের উপর ফরজ।
:
পরিশেষে বলবো পুরুষ তোমরা যদি একদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখো তাহলে অন্যদিকটা (নারীরা)অন্ধকারে থাকবে,আর সেই অন্ধকারের ছায়া তোমাদেরকেও নিমজ্জিত করিবে,এসো আলোকিত পথে চলি হাতে হাত রেখে.

Leave a Reply

Your email address will not be published.