২৫শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ১১ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:২০

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যুবক-যুবতীর আত্নহত্যা

নিউজ ডেস্কঃ আমি তোমাকে অনেক মিস করছি, তুমি জানতা আমি একটু পাগল টাইপের, তুমি তো মানিয়ে নিতে পারতা। তোমার নাম্বারটাও আমি রেগে ডিলিট করে দেই, কিন্তু আমি সত্যি তোমাকে অনেক মিস করছি।’

নিবিড় সম্পর্কের ফেসবুকে পাতানো বোনটির শোক ভার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করলো তানজিম। তানজিম আত্মহত্যা করার আগে ফেসবুকে সোমবার (৩১ জুলাই) রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে উপরোক্ত স্ট্যাটাস দিয়েছিল।

তিনদিনের ব্যবধানে প্রত্যাশা ও তার ফেসবুকে পাতানো ভাই তানজিমের আত্মহত্যায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে ঠাকুরগাঁও শহরে। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে গত তিনদিনে এক যুবতীর পর এবার আরেক যুবক আত্মহত্যা করেছে।

এই দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা চরমে উঠেছে শহরের অভিভাবক মহলে। সন্তানদের এই প্রবণতা কীভাবে রোধ করা যায়, কেনই বা এসব দিকে ধাবিত হচ্ছে তরুণ তরুণীরা তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

কেউ দুষছেন দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় তরুণ তরুণীদের সঠিক পথ দেখানোর সামাজিক ব্যর্থতা কে , নাটক সিনেমা গল্প উপন্যাসসহ বিদ্যমান সংষ্কৃতিকে তবে অভিযোগের তীরটি প্রধানভাবে বিদ্ধ হচ্ছে ফেসবুকের দিকে।

গত ২৯ জুলাই প্রত্যাশা আক্তার ঘুমের ওষুধ খেয়ে মৃত্যুর পর মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায় তন্ময় তানজিম (২৩) নামে এক যুবক মৃত্যুর আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তানজিম শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায় ওহিদুল ইসলামের ছেলে। ওহিদুল জেলা শহরের ব্যবসায়ি হলেও তার প্রসিদ্ধি কবর খোঁড়ার কারিগর হিসেবে। শহরের হাজার হাজার মৃত মানুষের কবর খোঁড়া অহিদুলের আজ ছিল কঠিন পরীক্ষার দিন , তবে সেখানেও সে পাশ। তাঁর খোঁড়া কবরেই শেষ ঠিকানা হলো ছেলে তানজিমের।

ওইদিনই বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে তানজিম তার ফেসবুকে এক সংবাদকর্মীর টাইম লাইন থেকে প্রত্যাশার মৃত্যু নিয়ে একটি প্রতিবেদনের কিছু কথা কপি করে শেষ স্ট্যাটাসটি দিয়েছিল, ২২ জুলাই দিনটি ছিল শনিবার। সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে প্রত্যাশা আক্তার তার নিজ টাইম লাইনে লিখেছিলেন, “সব বলা হয় তো শেষ হয় না।।। অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস” (কেউ কমেন্ট করবেন না প্লিজ)। এরপরই সে প্রায় ৪০টি ঘুমের ওষুধ খায় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে গত ২৯ জুলাই এ ঘটনার পর মৃত প্রত্যাশাকে নিয়ে ফেসবুকের তার বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রত্যাশিত ও অপ্রত্যাশিত বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, যা ভাইরালে পরিণত হয়েছে। অনেকে প্রত্যাশার মৃত্যুর আগের স্ট্যাটাসটিতে মন্তব্য করেছেন। অনেকে আবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের পর তার আত্মার শান্তি কামনা করে নানা কথা লিখেছেন। অনেকেই প্রত্যাশা আক্তারের মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়েছেন।

তানজিমের ফেসবুকের টাইম লাইন সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজপাড়া এলাকার প্রত্যাশা আক্তারের (২৯ জুলাই আত্মহত্যা করেছে) সঙ্গে ভাইবোনের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা প্রায় এক বছর ধরে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করত।

২৯ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন প্রত্যাশা নামে এক তরুণী। ফেসবুকে পাতানো বোনের মৃত্যুতে হতাশ হয়ে পড়েন তন্ময় তানজিম। পরে জানাজা শেষে প্রত্যাশার লাশ কবরে নিজ হাতে দাফন করেন তানজিম ও তার বন্ধুরা।

এরপর থেকে তানজিম তার পাতানো বোনের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। ফেসবুকে প্রত্যাশা আক্তারের ছবিসহ অনেকেই সমবেদনা জানালে তানজিম তার টাইম লাইনে ছবি প্রকাশ করতে নিষেধ করে লিখেছিলেন, মেনে নিতে পারতেছি না। বিশ্বাস করতে পারতেছি না। চিৎকার দিয়ে কানতেও পারতেছি না…।

তানজিমের বাবা ওহিদুল ইসলাম জানান, দুদিন বাসার রুম থেকে বের হওয়া ও খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল সে পাতানো বোনের মৃত্যুর শোকের কারণে। তানজিম আবেগের কারণে শেষ পর্যন্ত গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে ভাবতেই পারছি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.