১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:২০

মদিনা সম্পর্কে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য

নিউজ ডেস্কঃ মুসলমানদের প্রাণের ভূমি মদিনা। প্রিয়নবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের বরকতময় স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র শহর মদিনা। এই পুণ্যভূমিতেই সবুজ গম্বুজের ছায়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব, সায়্যিদুল মুরসালিন, রাহমাতুল্লিল আলামিন (সা.)।

 

তাঁর পবিত্র দেহ বুকে ধারণ করে মদিনা চিরধন্য। তাঁর নাম শোনামাত্রই হৃদয়ের আয়নায় ভেসে ওঠে এক স্বর্গীয় নগরীর ছবি। প্রেম, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধে ভরে যায় মন। মুমিনের জীবনে আল্লাহর ঘর জিয়ারত ও প্রিয় হাবিবের রওজার পাশে দাঁড়িয়ে সালাম জানানোর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি হতে পারে না। মুসলমানদের প্রাণের মদিনা সম্পর্কে জেনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য।

 

মদিনার মর্যাদা

মদিনা বরকতপূর্ণ নগরী। এর বরকতের জন্য প্রিয়নবী (সা.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি মক্কায় যে বরকত দান করেছেন, তার দ্বিগুণ বরকত মদিনায় দান করুন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৩৯২)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমাকে এমন এক নগরীতে বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মর্যাদায় সব শহরকে ছাড়িয়ে যাবে। মানুষ তাকে ইয়াসরিব বলে। তার নাম হলো মদিনা। তা মন্দ চরিত্রের লোকদের এমনভাবে দূর করে দেবে, যেমন কামারের ভাট্টি লোহার ময়লা দূর করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৭১)

 

মদিনার প্রতি রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা

আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি মদিনাকে আমাদের কাছে এমনই প্রিয় করে দাও, যেমনি প্রিয় করেছ মক্কাকে। বরং তার চেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩৭২)

 

আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো সফর থেকে মদিনায় ফিরে আসতেন, তখন দূর থেকে মদিনার ঘরবাড়ি দেখেই তাঁর উটের গতি বাড়িয়ে দিতেন। অন্য কিছুতে আরোহিত থাকা অবস্থায় ভালোবাসার আতিশয্যে তা নাড়াচাড়া শুরু করে দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৮৬)

 

আবু হুমাইদ সায়েদি (রা.) বলেন, “আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলাম। যখন আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘এই তো পবিত্র ভূমি। এই তো ওহুদ পাহাড়, যে পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও তাকে ভালোবাসি’।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৪২২)

 

মদিনাবাসীর ফজিলত

মদিনাবাসী আনসার সাহাবিদের সম্পর্কে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর ওই সব লোক, যারা তাতে (মদিনায়) আগে থেকেই ইমানের সঙ্গে বসবাস করছে। যারা হিজরত করে তাদের কাছে আসে, তাদের তারা ভালোবাসে। আর যা কিছু তাদের (মুহাজিরদের) দেওয়া হয়, তার জন্য নিজেদের অন্তরে কোনো চাহিদা বোধ করে না। আর তাদের (মুহাজিরদের) তারা নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা অভাব-অনটনে ভোগে।