২৩শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং | ১০ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:৩৪

উদ্বোধন ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। টানা ৫ বছরের বিশাল কর্মযজ্ঞের ফসল এটি। বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের একান্ত চেষ্টা ও শ্রমে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার’ পরিচিতি পাওয়া এই স্থাপনা। প্রথমদিকে এর নাম জ্যাকব টাওয়ার ছিল না। গত বছরের ১৮ মে নির্মাণাধীন টাওয়ার পরিদর্শনে যান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। নির্মাণশৈলী আর নান্দনিক সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে তিনি এর নাম দেন ‘জ্যাকব টাওয়ার’। উপমন্ত্রী জ্যাকব ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলেছেন তার নির্বাচনী এলাকা চরফ্যাশন এবং মনপুরা উপজেলাকে। চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ অরণ্যের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এরই মধ্যে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে পর্যটকদের কাছে।

 

প্রায় ১ একর জমিতে এ টাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চরফ্যাশন পৌরসভা। ২২৫ ফুট উচ্চতার টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। মাটির ৭৫ ফুট নিচ থেকে ঢালাই-পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর সম্পূর্ণ ইস্পাত নির্মিত এ টাওয়ার ৮ মাত্রার ভূমিকম্পন সহনীয়। ভূমির উপরিতল থেকে টাওয়ারের ওপর থাকা গম্ভুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস। চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে ১৩ জনের ধারণক্ষমতার অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ার চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতার বাইনোকুলার, যার সাহায্যে বঙ্গোপসাগরের একটি অংশসহ চারপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেখা যাবে। এছাড়া বিশ্রামাগার এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসহ রয়েছে খাবারের সুব্যবস্থা। টাওয়ারে উঠতে জনপ্রতি ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় আরও ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের বৃহত্তম সুইমিংপুল, বিশ হাজার লোকের ধারণক্ষমতার ফ্যাশন স্কয়ার ও অত্যাধুনিক শিশুপার্ক।

 

টাওয়ার উদ্বোধনের পর রাষ্ট্রপতি চরফ্যাশন টিবি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এমপি জ্যাকবের গড়া চর কুকরি-মুকরি পর্যটন কেন্দ্রেও যাবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি রাতে উপভোগ করবেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকবেনও সেখানেই।