১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:৫৮

খোকসার নিভৃতচারী কবি শরতের আর্তনাদ! সবাইকে এগিয়ে আসার আনুরোধ মিডুিয়াজোনের

নাম শরৎ চন্দ্র সরকার! নামের মতোই মনটিও তাঁর শরতের আকাশের মতই পরিস্কার আর সৌন্দর্য্যে ঘেরা। শারীরিক প্রতিবন্ধী, উনুনে হাঁড়ি ওঠে না ঠিকমতো। বিভিন্ন রোগের দখলে তাঁর সমস্ত শরীর। তিনি কবিতা লিখতেন। করতেন একটি সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদনার কাজও। তবে সেটি অনেকটায় অন্তরালে। কিন্তু এখন আর এই কবির হাতে কলম ওঠে না। শুভ্র কাগজে এখন আর সাদা-কালোর পঙতিমালায় ছন্দ আর শব্দের জাদু দেখাতে পারেন না।

 

খোকসার আরেক কবি খন্দকার জাহাঙ্গীর হুসাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শরৎ চন্দ্র সরকারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন।

 

খন্দকার জাহাঙ্গীরের স্ট্যাটাসটির মাধ্যমে জানা গেছে শরৎ চন্দ্র সরকার ছিলেন অসম্ভব মেধাবী! কবিতা রচনার মাধ্যমে তিনি সবার মন জয় করতেন। খোকসা থেকে প্রকাশিত ‘স্মৃতি হয়ে থাক’ সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। খোকসার গুণী শিক্ষক দ্বিজেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের আস্থাভাজন ছিলেন। কবিতার হাতেখড়ি তাঁর কাছ থেকেই।

 

কুষ্টিয়ার খোকসার সবুজ বৃক্ষ আর সোনালী ফসলের মড়কে মোড়ানো নিভৃত পল্লী পাইকপাড়া মির্জাপুর গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসুদেব সরকারের জ্যৈষ্ঠ পুত্র শরৎ খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উন্নীত হয়েছিলেন। খোকসা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর একই কলেজ থেকেই স্নাতকে অধ্যয়নরত অবস্থায় হঠাৎ প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে দু’পা অকেজো হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন সম্ভাবনাময়ী এই কবি।

 

তাই বলে জ্বলতে জ্বলতে নিভে যাওয়ার পাত্র নন শরৎ! অসুস্থরত অবস্থায়ই টিউশনি করিয়ে সংসার চালাচ্ছিলো। কিন্তু বর্তমানে এলাকায় কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট টিউটরদের আধিপত্য থাকায় শরতের কাছে কেউ আর পড়তে আসে না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শরৎ এখন সীমাহীন সাগরে নিমজ্জিত।

 

কুষ্টিয়ার সময়কে শরৎ চন্দ্র সরকার বলেন, আমার শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসছে। ডায়াবেটিসের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিকল হয়ে যাওয়া পা দুটোতে ঘরের বেড়া ধরে হাঁটা যেতো। এখন সেটাও আর সম্ভব হচ্ছেনা। গত ছ’মাস ধরে যক্ষ্মর চিকিৎসা চলছিল বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক-এর সহযোগিতায়। কিন্তু সে চিকিৎসার পর থেকে যেন মৃত্যু তাঁকে আহবান করছে। শরীরে প্রচন্ড শীত আর ঘাম। পা’দুটি ফুলে গেছে।

 

শরৎ যেন কবিতার মাধ্যমে আবার শুভ্রতা ছড়াতে পারে। আবার যেন সে স্বাভাবিক জীবনে পা দিতে পারে; সেজন্য সবার সহানুভূতি প্রয়োজন।

 

ইতোমধ্যেই খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান সোহেলের নিবিঢ় তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা চলছে।

 

যেকোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করতে যোগাযোগ করুন শরৎ চন্দ্র সরকারের ফোন নাম্বারে ০১৭২৮-৮৪৮৩৫৭।