১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৫৪

রাজিব, তুমি সুবোধের সাথে পালিয়ে গিয়ে খুব ভাল করেছো ভাই

আসলে তোমার মতো গরীব মানুষের জন্য এই সমাজ না।
জানো না, ঢাকা শহরের রাস্তাগুলোয় কত সু-শৃংখলভাবে দামি ব্যক্তিগত গাড়িগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে!
রাস্তা ভরা ঐ দামি লোকের গাড়িগুলোতে বেঁচে থাকতে কখনো টোকা লাগতে দেখেছো
উপড় থেকে মহাজনদের কঁড়া নির্দেশ- গাড়িগুলোতে যেন টোকা না লাগে।
তোমার মতো সাধারণ রাজিব দিনে হাজারটা মরলেও কারো কিছু যায় আসে?
আরে হাজারটাই তো মরছে প্রতিদিন!

 

তুমি যেদিন এক্সিডেন্ট করলে , ওইদিন দুই একটা জাতীয় পত্রিকা একটি দামি মার্সিডিজ গাড়িতে দুইজনের আহত হওয়ার খবর ছাপিয়েছিল………
কেবল গুটিকয়েক পত্রিকা তোমার খবর ছাপিয়ে শুধু শুধু তাদের পাতাই নষ্ট করেছে বৈকি।

 

রাজিব শোন,
নিশ্চয় শুনতে পাচ্ছো……
এরা কেউ তোমার বিচার করতে পারবে না।
তুমি মন খারাপ করো না ভাই।
একটু বোঝো কয়জনের বিচার করবে বল?
প্রতিদিন কত শতশত তোমারমত এরকম ছোটখাটো রাজিব পিষ্ট হচ্ছে চাকার নিচে তার কি খবর আছে?
ওদের ব্যস্ততা শুরু তো উচ্চমধ্যবৃত্ত থেকে।
জানো না- বাংলাদেশ এখন মধ্যমদের দেশ!?
এটা দেখার সৌভাগ্যও তো তোমারর হয়েছিল। তোমার স্থান কোথায় তুমি একটাবার ভাব।

 

রাজিব দেখ ভাই, একটু বোঝার চেষ্টা কর।
তুমি এখন পুরোপুরি চিন্তামুক্ত।
তোমাকে তো আর জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করতে হচ্ছেনা।
প্রতিদিন সকালে খেয়ে না খেয়ে দৌড়ে লাফিয়ে ঝাপিয়ে ঝুলে বাস ধরে আর কি কলেজ করতে হবে বল?
এখন কেবল ওপারে বসে তোমার অভিমানি মন নিয়ে দেখবে প্রতিদিন আর কয়টা রাজিব পিষ্ট হচ্ছে চাকার নিচে।
যতো মরবে ততোই তোমার মনে শান্তনা খুঁজে বেড়াবে।

 

আর আমরা গুটিকয়েক মানুষ প্রযুক্তির বদৌলতে ঐ সমস্ত খবর জানতে পেরে স্বাময়িক সময়ের জন্য একটু মন খারাপ করব, অথবা নিরবে কয়েক মিনিট চোখের পানি ঝরাবো অথবা হাত তুলে সৃষ্টিকর্তার নিকট তোমাদের জন্য দোয়া করবো।