১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং | ১লা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:৪৩

কুষ্টিয়ার প্রতিবন্ধী মেয়েদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে হবে তিন কন্যার বিয়ে

তিন কন্যার বিয়ে। গত রোববার হয় তাঁদের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান। কুষ্টিয়া সমাজসেবা অধিদপ্তর, ।
গায়েহলুদ হয়েছে। কার্ড ছাপিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে চলেছে বিয়ের কেনাকাটা। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে চলছে শামিয়ানা টাঙানোর কাজ। বরযাত্রীদের খাওয়ানোর জন্য করা হয়েছে প্যান্ডেল। এখন শুধু অপেক্ষা বিয়ের।

 

ইতি, হাওয়া ও উরুফা- তারা তিন কন্যা, তবে বোন নয়। প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছর পেরিয়েছে। জানা নেই তাদের বাড়ি কোথায়। থাকেন কুষ্টিয়া সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। জেলা সমাজসেবার আওতাধীন পরিচালিত এই কেন্দ্রে কাল বুধবার মহাধুমধামের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হবে। পুরো আয়োজনের উদ্যোক্তা কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক জহির রায়হান।

 

জানতে চাইলে জহির রায়হান হাসিমুখে বলেন, ‘মেয়েসহ বরের বিয়ের যাবতীয় সামগ্রী কেনাকাটা চলছে। এমনকি সংসারের ব্যবহার্য জিনিসপত্রও দেওয়া হচ্ছে। আপনিও বিয়েতে আমন্ত্রিত।’ তিনি আরও বলেন, একটা মেয়ের বিয়েতে পরিবারের সদস্যরা যেরকম ভাবে থাকে, ঠিক একই ভাবে তিন মেয়ের পাশে থাকবেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 

প্রশাসন সূত্র জানায়, ইতি খাতুনকে প্রায় দেড় বছর আগে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলায় পাওয়া যায়। সেখানে এক নারী কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে তাঁকে এই কেন্দ্রে আনা হয়। ইতি খাতুন তেমন কথা বলতে পারেন না। তবে ইশারায় সব জানাতে পারেন। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা জানাতে পারেননি। সেই থেকে এখানেই থাকেন। সম্প্রতি এক নারী যোগাযোগ করেন মেয়েটিকে তাঁর ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য। জিল্লুর রহমান নামের ওই ছেলে এলাকায় ভ্যান চালান।

 

হাওয়া খাতুন নামে মেয়েটি ৫ বছর আগে যশোর আহসানিয়া মিশন থেকে এই কেন্দ্রে আসেন। তিনি বাক্‌প্রতিবন্ধী। তবে অল্প একটু লিখতে পারেন। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা জানেন না। কেন্দ্রের এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে মেহেরপুর গাংনী উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজন আলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছে। সুজন কৃষি কাজ করেন।

 

উরুফা খাতুনকেও ৫ বছর আগে যশোরের আহসানিয়া মিশন থেকে এই কেন্দ্রে আনা হয়। তিনিও নাম বলতে পারেন। তবে মা-বাবার নাম বা বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেন না। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় রুহুল আমিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হচ্ছে। রুহুল ঢাকাতে রিকশা চালান। ৬ বছর আগে এই কেন্দ্রে আরও একজন মেয়ের বিয়ে হয়েছিল নওয়াপাড়ায়। তার সূত্র ধরেই রুহুল আমিনের সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে।

 

জানা গেছে, গত এক মাস ধরে তিন বরের পরিবারে সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়। এ ব্যাপারে একটি কমিটিও করা হয়। উভয় পক্ষের সম্মতিতেই বিয়ে হচ্ছে। মেয়েদেরও সম্মতি নেওয়া হয়েছে।

 

তিন মেয়ের সংসারে জিনিসপত্র কেনা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে।
সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান বলেন, গত রোববার কেন্দ্রে তিন মেয়ের এক সঙ্গে গায়েহলুদ হয়েছে। বরযাত্রী ও অতিথিদের খাওয়া দাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ। প্রত্যেক বরের সঙ্গে ১৫ জন করে যাত্রী আসবে। এখন শুধু বিয়ের জন্য অপেক্ষা.