২১শে জুলাই, ২০১৮ ইং | ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৫০

চৌরঙ্গীর এই ছেলে রাব্বির স্বপ্ন কি স্বপ্নই থেকে যাবে

কুমারখালি উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের চৌরঙ্গী গ্রামে বাড়ি রাব্বির মা রোকেয়া (৩৫) বেগমের। বিয়ের পর থেকেই স্বামী হাফিজুল ঠিকমত সংসারের খরচ দিতো না। এরপর রাব্বি(১৩) পেটে এলে একদিন স্ত্রী রোকেয়াকে তার বাবার বাড়ি চৌরঙ্গীতে পাঠিয়ে দেয়। এর ফাঁকে হাফিজুল আরেকটা বিয়ে করে। এবং হাফিজুলের সকল সম্পত্তি হাফিজুলের সৎ ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে কাউকে না জানিয়ে ২য় স্ত্রীকে নিয়ে চলে যায়। এদিকে মায়ের বাড়িতে ১ম স্ত্রী রোকেয়া এই খবর পাওয়ার পর ছুটে যায় স্বামীর বাড়ী। কিন্তু ততক্ষণে সকল সম্পত্তি বিক্রি করে স্বামী হাফিজুল চলে গেছে অন্যত্র। এমতবস্থায় রোকেয়া খাতুন খোকসা উপজেলায় কোন এক আত্মীয়র মাধ্যমে মানুষের বাড়িতে কাজ নেয়। এরপর রাব্বির জন্ম হয়।

 

অনাহারে কষ্টে সন্তানকে নিয়ে রোকেয়া বেগমের জীবন অতিবাহিত হতে থাকে। খোকসাতে কয়েক বছর থাকার পর সন্তান রাব্বিকে নিয়ে রোকেয়ার বাবার বাড়ি চৌরঙ্গীতে চলে আসে। রোকেয়ার বড়ভাই মজিবর ও মেজ ভাই শাহাদাৎ ফকির। রোকেয়ার তিন ভাইয়েদের অবস্থাও শোচনীয়। তবুও তারা রোকেয়ার কষ্ট দেখে আধাশতক পরিমাণ জমি দেয়। এবং ঋণ নিয়ে একটা ঘর করে দেয়। তাদের একটা চৌকি কেনারও সামর্থ্য নেই। ঘরের মেঝেতে পাটি বিছিয়েই ঘুমায় মা আর ছেলে ।এদিকে রাব্বিকে ভর্তি করে দেওয়া হয় স্কুলে। বাবা না থাকায় পরিবারের হাল ধরতে হয় মা কে। কিন্তু রাব্বির মায়ের অল্প রোজগারে সংসারের বাতি জ্বলতে গিয়েও নিভে নিভে যাচ্ছিলো। অনেকদিন অনাহারে কেটেছে রাব্বি আর তার মায়ের দিন।

 

এ অবস্থা দেখে রাব্বির ছোট্ট হৃদয়ে জমা হয় কষ্টের পাহাড়। তাকে পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিতে হয়। তার মা না খেয়ে থাকুক এটা রাব্বি চাইনা। কিন্তু কে ধরবে তার পরিবারের হাল? আজ রাব্বি বাদাম বিক্রি করে তার সংসার চালায়। চৌরঙ্গী স্কুলের সামনেই তার বয়সি শিক্ষার্থীরাই তার কাছ থেকে বাদাম কেনে। প্রতিদিন গড়ে ১৫০/২০০ টাকা বিক্রি হয়। কোন কোন দিন ৪০/৫০ টাকা বিক্রি হয়। এই দিয়ে চলে রাব্বির আর তার মায়ের ছোট্ট সংসার।

 

রাব্বির মা রোকেয়া খাতুন অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন “আমাদের পাশে দাঁড়াবার আজ কেউই নেই। আজ আমার ছেলের বয়স তের বছর। কি ওর ভবিষ্যৎ। কি হবে ওর। ওর বাবাও নেই যে কাজ করে সংসার চালাবে। আমি একা মেয়ে মানুষ হয়ে কিভাবে সংসার চালাবো? ।” এই কথাগুলো বলতে গিয়েই কান্নায় ভেঙে পরে রাব্বির মা।

 

রাব্বির স্বপ্ন ও আর দশটা শিশুদের মতো পড়ালেখা করে বড় হবে। আমরা কি পারিনা রাব্বি ও তার মায়ের পাশে দাঁড়তে?
রাব্বি ও তার মা রোকেয়া খাতুন প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করছেন।

 

বিকাশের মাধ্যমে সাহায্য পাঠান এই নাম্বারে- 01757301458 (পারসোনাল)।

(স্থানীয় প্রতিনিধি- মোঃ মেহেদী হাসান বাধন)