১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং | ১লা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:৪২

খালেকের জয়ের নেপথ্যে

মঙ্গলবার (১৫ মে) খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসিতে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হওয়া এ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। আর খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী ৬৫ হাজার ৬০০ ভোট বেশি পেয়েছেন। নির্বাচনের পর বিভিন্ন মহলে এখন চলছে নানান বিচার-বিশ্লেষণ। মঞ্জুকে হারিয়ে খালেকের বিজয়ী হওয়ার পেছনে কী কী বিষয় কাজ করেছে?
স্থানীয় ভোটার, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালুকদার আব্দুল খালেকের জয়ের পেছনে অনেকগুলো কারণ ছিল। তবে এর মধ্যে ৯টি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

 

তারা বলছেন, ২০১৩ সালের নির্বাচনে খালেকের পরাজয়ে পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল— তখন খুলনা আওয়ামী লীগে চরম গ্রুপিং ছিল। ফলে খালেকের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সমর্থকরা তাকে ভোট দেয়নি। কিন্তু এবারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী কথার চেয়ে কাজে মনোনিবেশ, কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ দায়িত্ব বন্টন, তৃণমূলে কর্মীদের সক্রিয় করা, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও বিগত দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রচার এবং দলগত সংহতি তৈরিতে সবাই ছিলেন মনোযোগী ।

 

নির্বাচন পরবর্তী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আওয়ামী লীগে ২০১৩ সালের নির্বাচনের চেয়ে এবার সাংগঠনিক শক্তি ছিল অনেক বেশি ও সক্রিয়। কেন্দ্রেীয় কঠোর হস্তক্ষেপের কারণে কোনও প্রকার বিভাজন বা গ্রুপিংই সক্রিয় হতে পারেনি। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ইঙ্গিতপূর্ণ কথা ও কর্মীদের প্রতি চাপ সৃষ্টির কারণে সব পর্যায়ের গ্রুপিং ভুলে গিয়ে এক শক্তিতে পরিণত হয়। দলীয় বিভাজন নিরসনে কেন্দ্র থেকে যথাযথ মনিটরিং করা হয়। খালেক সংসদীয় এলাকা ছেড়ে কেসিসি নির্বাচনি এলাকায় বেশি সক্রিয় হন। এ নির্বাচনে উন্নয়ন প্রচারকে প্রাধান্য দিয়ে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করা হয়। এছাড়াও খুলনার সচেতন সাংবাদিক সমাজ ব্যানারে সাংবাদিকরাও খালেকের জন্য মাঠে নামেন।

 

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে দলীয় সব স্তরের কর্মীরা ছিলেন এক। তারা সব ধরনের বিভেদ ভুলে এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন, যা উল্লেখ করার মতো। দলীয় কর্মীরা তৃণমূলে জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এসব কারণে গণমানুষের ভোট আওয়ামী লীগ পেয়েছে।’

 

খালেক বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর এ নগরীকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে। উন্নয়নতো হবেই। ২০০৮ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর হাজার কোটি টাকার কাজ এনেছিলাম। কিন্তু যে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে খুলনার জলাবদ্ধতাসহ জনমানুষের সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা,বাস্তবে তা হয়নি। ওই পাঁচ বছরে দীর্ঘমেয়াদী কিছু পরিকল্পনা ছিল। এবার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেখান থেকেই কাজ শুরু করা হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘ওয়াসার চেয়ারম্যান থাকাকালে ২৬০০ কোটি টাকার কাজ এনেছিলাম, যা দিয়ে এখনও কাজ চলছে। ওই প্রকল্পের সুফল জনতা ডিসেম্বরেই পেতে যাচ্ছে। ’