১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং | ১লা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:৩৮

কে সরে যাবেন: তারেক না ফখরুল?

শেষ পর্যন্ত লন্ডনে যেতেই হলো বিএনপি মহাসচিবকে। ঢাকা থেকে যখন ব্যাংককে যাচ্ছিলেন তখনই বাংলা ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মির্জা ফখরুলকে লন্ডনে তলব করা হয়েছে। কিন্তু সে সময় মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, ‘এ সবই গুজব’। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ব্যাংককে তিনি চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। কিন্তু ব্যাংককে গিয়ে তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি উড়াল দেন লন্ডনে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, নানা কারণে মির্জা ফখরুলের লন্ডন সফর গুরুত্বপূর্ণ। এখানে তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন। মহাসচিব হবার পর এটাই হবে তারেকের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক। এই বৈঠক অন্য দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তারেক জিয়ার সম্পর্ক ভালো না। বিশেষ করে, ২০১৪-২০১৫ এর আন্দোলনের মির্জা ফখরুল যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেননি বলেই তারেক মনে করেন। বেগম জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হন। গত চার মাসের বেশি সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে।

বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপি কোনো কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে ক্রমশ। এর মধ্যে বিএনপিতে ভাঙনের গুঞ্জন প্রতিদিনই ডালপালা মেলছে। নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপিতে মতপার্থক্য এখন স্পষ্ট। এরকম নাজুক এবং কোণঠাসা অবস্থায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক মহাসচিবকে ডেকে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির আন্দোলন এবং বেগম জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহল নিরুত্তাপ, নীরব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই নীরবতার প্রধান কারণ হলো তারেক জিয়া। তারেক জিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের অভিযোগ এখন প্রকাশ্য। বিশ্বের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তারেক জিয়ার যোগাযোগ আছে বলেও অভিযোগ আছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, বিএনপিকে ‘তারেক মুক্ত’ করার পরামর্শ দিয়েছে ভারত। ভারতের সঙ্গে একমত পাকিস্তান ছাড়া অন্যান্য দেশগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা চলছে। সেই চেষ্টাতেও খলনায়ক তারেক। সকলেই বলছে, তারেক নেতৃত্বে থাকলে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তারেককে আপাতত রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কঠিন কথাটি কি বলবেন মির্জা ফখরুল?

অন্যদিকে, বিএনপির কট্টর তারেকপন্থীরা মনে করছে, মির্জা ফখরুল লড়াকু নেতা নন। তাঁর নেতৃত্বে বড় আন্দোলন গড়ে তোলা অসম্ভব। বিএনপির তরুণ এই অংশ এক দফা আন্দোলনের পক্ষে। যে আন্দোলন সরকারের পতন ঘটাবে এবং বেগম জিয়াকে মুক্ত করবে। সেরকম আন্দোলন করার জন্য মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব পদ থেকে সরানোর দাবি বিএনপিতে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ফখরুল তারেক বৈঠকে একজনকে কি সরে যেতে হবে? নাকি দুজনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলবে? তা জানার জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।

সুত্র- বাংলা ইনসাইডার