২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:১১

১৫৫ বছর পূর্তিতে কাল ২০ জুন বুধবার সকাল থেকে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

ভারতবর্ষে নারী শিক্ষা যখন নতুন বিষয়, সমগ্র বঙ্গ মুলুকে নারী শিক্ষা যখন এক দুঃস্বপ্ন,কাঙাল হরিনাথ মজুমদার (১৮৩৩-১৮৯৬) এক নমস্য,প্রাতঃস্মরনীয় অর্ধশিক্ষিত গ্রাম্য ব্যক্তি। প্রাচীন তুলসী গ্রাম খ্যাত অধুনা কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়া গ্রামে নিজ চেষ্টা ও সাধন বলে গড়ে তুলেছিলেন একটি বালিকা বিদ্যালয়। কাঙাল হরিনাথ তৎকালীন কুমারখালীর মত গন্ড গ্রামে গড়ে তুললেন কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয়। সময়টা ১৮৬৩। তারও আগে তিনি একাধিক স্কুল স্থাপন করেছেন বলে গবেষকরা জানান। যাহোক, কুমারখালি তখনও পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে নি। নেই রাস্তা ঘাট, নেই আলোর রশনি, জ্ঞানের আলো জ্বালানোর বিশাল কর্মযজ্ঞে নামলেন কাঙাল হরিনাথ। সম্পাদক ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রাজ্ঞ শিক্ষানুরাগী কৃষ্ণধন মজুমদার। তখন ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৮। ৬ জন হিন্দু ও ২জন মুসলিম। কৃষ্ণধন গুরুমহাশয় কাঙালকে শিক্ষক হিসেবে আত্ম নিবেদনের প্রগাঢ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তৎপর কাঙাল সে দায়িত্ব তাঁর প্রথাসিদ্ধ পবিত্র কর্তব্য হিসাবে মাথায় তুলে নিলেন। তখন পড়ানো হত তৃতীয় শ্রেনী পর্যন্ত। তার বেশ কয়েক বছর পর অনুমোদন মিলল ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত এবং তারও কয়েক বছর পর ৮ম শ্রেণী তারপর ১০ম শ্রেণী।

 

ইতিহাসকন্যা কুমারখালী। ইতিহাসের পাদপীঠে গূঢ়সত্য কখনোসখনোা আলোকিত আবার অদ্ভুত অন্ধকারে নিপতিত । যে ধনে হইয়া ধনী/মনিরে মান না মনি। যে ভবন টাকে ঘিরে নারী শিক্ষার অঙকুরোদগম হয়েছিল সিদ্ধপীঠ কুমারখালিতে কাঙালের সেই ভবনে পরিচালিত নিম্ন প্রাথমিক,প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা আজ আঁধারে ঢেকে গেছে। যে ভবনে কাঙালের পায়ের চিহ্ন আঁকা ছিল সে ভবন আজ আগাছায় ছেয়ে গেছে।

 

বাংলাদেশের জ্ঞানী গুণী প্রাজ্ঞ হিতৈষীগণের কাছে গবেষক ও ইতিহাস সংরক্ষণকারীদের দাবী এই ভবনটিকে বাঁচানোর। কাঙালের স্কুলে আবার প্রাথমিক শিক্ষা চালুর ব্যবস্থা হোক।
শতবর্শী পূর্বে বহুদূর থেকে নারীদের স্কুলে আসা যেমন দু:সাধ্য ছিল । কিন্তু আজ আর সে অবস্থা নেই। মেয়েরা পায়ে হেঁটে আসার সাথে সাথে পরিবহন ব্যয় কমানোর মধ্য েিদয় নিজেরাই সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে নারীরা সমানতালে শিক্ষা গ্রহণ করছে । অর্থনীতির চাকা সচল রাখবার পাশে দেশকে সমৃদ্ধ ও ঋদ্ধ করছে।

 

ঊনিশ শতকের আলোকিত মানুষ কিংবদন্তি কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের হাতে পূর্ববঙ্গের নারী শিক্ষার আলোকঝাঞ্ঝা উড়েছিল সে সত্য আড়াল করে চলে যাওয়া যায় না। কাঙালের হাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নারীশিক্ষার শূভ সূচনা সত্যিই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তারই প্রেরণা পরবর্তী প্রজন্মদের মধ্যে পৌঁছে গেছে Í কুমারখালী পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এত্দাঞ্চলে নারীশিক্ষা বিস্তারে গৌরবময় ভ‚মিকা পালন করে চলেছে।

 

ছাত্রী পুণর্মিলনী অনুষ্ঠান ২০১৮ এর মহতী অনুষ্ঠানে প্রাক্তনে-নতুনের মেলবন্ধন এর মাধ্যমে সূচিত হোক অতীতকে সম্মান জানানো, ইতিহাস ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার। ঐতিহ্যের হাত ধরে ইতিহাসের পথে নতুন করে পথ চলার শুভ সূচনা হোক। এগিয়ে যাক নারীশিক্ষা আর সে শিক্ষার সাথে সাথে সুচিত হোক নারী আর নারী নয় সেওতো মানুষ। এই বোধ উদিত হোক সকল মননে বললেন পূর্তি অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক আরজুমান্দ বানু।