১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:১৭

কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান , কুমারখালীর আলো আলাউদ্দিন আহমেদ

 

১৯৩১ সালের ৩১শে জুলাই কুষ্টিয়া জেলার অজপাড়া গাঁ চকরঘুয়া গ্রামে আলাউদ্দিন আহমেদের জন্ম। জন্মলগ্নে তার ভেতর আশার আলো দেখতে পেয়ে পিতা বাহার আলী ও মাতা তহিরুন্নেছা তার নাম রাখেন “আলো”। ডঃ আলহাজ্ব আলাউদ্দিন আহমেদ মাত্র চার বছর বয়সে তার পিতাকে হারান। চাচা চাঁদ আলী ও মাতা তহিরুন্নেছার আদর যত্নে, মেধা মননে বিকাশ লাভ করতে থাকে শিশু আলো। ৬ বছর বয়সে নন্দলালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়র তাকে ভর্তি করে দেন তার চাচা। প্রতিদিন পায়ে হেটে দুই মাইল দুরের স্কুলে তাকে যাতায়াত করতে হত। তখন থেকেই তার মনে জন্ম নেয় এই অঞ্চলের গরীব ছেলেমেয়েদের শিক্ষা লাভের জন্য কিছু একটা করা দরকার।

 

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে কুমারখালী এম,এন হাই স্কুলে ভর্তি হন। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও তিনি বেশ পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬১ সালে যশোর জেলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে ম্যট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশ করেন। ঐ একই বছরে কুষ্টিয়া কলেজে আই কম ক্লাশে ভর্তি হন এবং চকরঘুয়ার বাড়ী থেকে নিয়মিত কলেজে আশা যাওয়া করতেন। তখন একমাত্র যোগাযোগ ছিলো ট্রেন।

 

১৯৬৬ সালে কুষ্টিয়া কলেজ থেকে বি কম পাশ করেন। সাহা মজুমদার এন্ড কোং এর অধীনে চাটার্ড একাইন্টেসিতে অধ্যায়ন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে কুষ্টিয়াতেই তার কর্ম জীবন শুরু করেন। ১৯৬৯ সালে এল,এল,বি সনদপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭০ সালে কুষ্টিয়াতে আয়কর উপদেষ্টা হিসেবে পেশা শূরূ করেন।

 

১৯৭২ সালের ২৬শে মার্চ শিলাইদহের সমাজসেবী জনদরদী সাংস্কৃতিসেবি গাজী হাবিবুর রহমানের কন্যা সুরাইয়া বিলকিসকে বিবাহ করেন।
তার প্রচেষ্টা ও অর্থায়নে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চকরঘুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে সরকারি অধীগ্রহনভুক্ত।

চাঁচার প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরুপ প্রতিষ্ঠা করেন চাঁদ ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ।
১৯৮২ সালে নিগ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেন আলাউদ্দিন আহমেদ প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে রুপদান করেছেন।

সাধারন শিক্ষার পাশাপাশি এখানে , কম্পিউটার, টাইপরাইটিং, সাটলিপিকার শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ২০০০ সালে কলেজিয়েট স্কুলটিকে কলেজে রুপান্তর করেন।

 

তিনি একই পল্লীতে ১৯৯৯ সালে আলাউদ্দিন আহমেদ শারিরিক শিক্ষা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষক গনের মান উন্নয়নে ১৯৯৮ সালে আলাউদ্দিন আহমেদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

বাংলাদেশ ক্রীড়া সিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদলে তিনি ২০০০ সালে আলাউদ্দিন আহমেদ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।অনেকগুলি শিক্ষা প্রতষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরন ও ভৌত সকল অবকাঠামোগত অডিটরিয়াম, সুইমিং পুল, খেলার মাঠ, হোস্টেল মহিলা হোস্টেল, বিনোদন মঞ্চ সুবিদজার কারনে পল্লীটি এখন আলাউদ্দিন আহমেদ শিক্ষা পল্লী নামে দেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।

 

১৯৯৩ সালে কুমারখালী কলেজ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ১৯৯৪ সালে কুমারখালী কলেজে আলাউদ্দিন আহমেদ ২০০ ফুট গুন ৩৫ ফুট একটি ভবন নিজ অর্থায়নে নির্মান করে দেন। সে ভবনের নাম আলাউদ্দিন ভবন।
১৯৯৫ সালে বাঁশগ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজ। তার নিজস্ব অর্থায়নে পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজের দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়েছে।

২০০৫ সালে তিনি আলাউদ্দিন নগরে তার পিতার স্বরনার্থে বাহার কৃষি কলেজ প্রতষ্ঠা করেন।
১৯৯২ সালে মিল পাড়ার নিজ জমিতে মোহাম্মদিয়া সামসুল উলুম মাদ্রাসার একটি ছাত্রাবাস নির্মান করে দেন এবং পাংশা থানার বয়রাট মাজাইল সিনিয়র মাদ্রাসা ভবন নির্মান সহ ছাত্রদের আবাসিক সংকট নিরসনে বশাল ছাত্রাবাস নির্মান করে দেন।
খোরশেদপুরে একটি দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। কুষ্টিয়া ঈদগাহ ময়দানে নামাজের স্থান পাকাকরন ও প্রাচীর নির্মানে সাহায্য করেন।

কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে জানাজার স্থানে শেড নির্মান করে দেন।
খোকসায় প্রতিষ্ঠা করেছেন আলাউদ্দিন আহমেদ কিন্ডার গার্ডেন এবং আমবাড়ীইয়ায় প্রতিষ্ঠা করেছেন হাফেজিয়া মাদ্রাসা।
গাজীপুরের জঙ্গলবাড়ী ও নয়নপুরে প্রিতিষ্ঠা করেছেন জামে মসজিদ।

 

তিনি ছাত্র ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, সম্মাননা মেডেল, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন। তিনি চড়াইকোল- শিলাইদহ- পাবনা সড়ক নির্মান কাজের আংশিক ব্যয়ভার বহন করেছেন।
তিনি ৭টি কালভার্ট নির্মান করে দিয়েছেন।